Tag Archives: মোশাহিদা সুলতানা

গণজাগরণ মিডিয়া রাজনৈতিকতা – মোশাহিদা সুলতানা

বিভিন্ন মিডিয়াতে ঢালাওভাবে বলা হচ্ছে এই আন্দোলন গণমানুষের আন্দোলন, কোনো রাজনৈতিক দলের আন্দোলন না। উদাহরণ হিসাবে দিচ্ছি: বণিক বার্তায় লেখা হয়েছে ‘বাংলাদেশের সব আন্দোলনেই নেতৃত্ব দিয়েছে রাজনৈতিক দল। কিন্তু কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবীতে যে গণআন্দোলন গড়ে উঠেছে, সেখানে তারা নিরাববয়ব ও অপ্রাসঙ্গিক’। অংশগ্রহণের দিক থেকে দেখলে অবশ্যই এই আন্দোলনে সব ধরনের মানুষ আছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেক বেশিই আছে। কিন্তু আমার কাছে মনে হচ্ছে মিডিয়া যেন আরো কিছু বলতে চাইছে এর মধ্যে দিয়ে। ব্যাপারটা এরকম যে রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ কম থাকার একটা ইতিবাচক দিক এই অর্থে কারণ রাজনীতি না করা ভালো। আবার মাঝে মাঝে আরেকটা অন্তর্নিহিত ইঙ্গিতও বহন করে এই ধরনের কথা। মনে হয় রাজনৈতিক দল নেই বললে আরো বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করবে, তাতে আন্দোলনে আরো মোমেন্টাম আসবে।

এখানে দুইটি কথা বলার আছে আমার। এই আন্দোলন হাওয়ায় হাওয়ায় হয়নি। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার একটা জোড়াল অবদান অবশ্যই ছিল শুরুতে যা প্রাথমিক স্ফুলিঙ্গ তৈরিতে সাহায্য করেছিল। এখন যেভাবে প্রচারণা করা হচ্ছে তাতে এরকম ধারণা তৈরি হতেই পারে যে সাংগঠনিক শক্তির বাইরে থেকেও চাইলে যেকোনো সময় আন্দোলন হয়ে যেতে পারে। সবার মত আমারও এরকম অপটিমিস্ট হতে ইচ্ছা করে। কিন্তু আসলে বিষয়টি আরো জটিল। মিডিয়া এভাবে প্রচার করতে থাকলে এক সময় তরুণরা মনে করবে বিপ্লব বা আন্দোলন বা প্রতিবাদ একটা রেডিমেড বস্তু। চাওয়া মাত্র হয়ে যাবে।

সাংবাদিকদের আরো দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন এই ধরনের বক্তব্য প্রচারে। গণজাগরণ কথাটা শুনতে খুব ভালো লাগে আমার। কিন্তু এই অংশগ্রহণকে আরেকটু ব্যাখ্যা করে বলার দরকার আছে। রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে ও তাদের যথাযথ ক্রেডিট দিলে আমাদের তরুণরা আরো আদর্শবাদী রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে ভবিষ্যতে আমাদের সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

জনগণের অংশগ্রহণকে মহিমান্বিত করুন আপত্তি নেই, কিন্তু আদর্শবাদী রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে তাদের যথাযথ মর্যাদা দিলে জনগণের অংশগ্রহণের মহিমা কম হবে না, বরং বাড়বে ভবিষ্যতে।

প্রথম প্রকাশ: ফেসবুক, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩