Tag Archives: তুষার হাসান মাহমুদ

শাহবাগ: ফেব্রুয়ারি ২০১৩ – তুষার হাসান মাহমুদ

ব্লগার রাজীব খুন হইবার পর ঘটনা পুরাই ঘুরিয়া গেল। কৌতূহলী মানুষ খোঁজ নিয়া যাহা জানিতে পারিলেন ঢাক বাজাইয়া তাহা জানানোই ছিল এই খুনের পহিলা অনুপ্রেরণা। কেননা কোন সমাজে মীরজাফর নাই যেমন নিশ্চিত করিয়া বলা যাইবে না সেইরকম কোন দেশে আদৌ কোন নাস্তিক নাই তাহাও বা কে বলিবে। প্রশ্ন হইতেছে, রাজীব খুন না হইলে এসলাম অবমাননার কথাটি কি এইসময় এইরকম ফাটিত?

এই খুন অনেকের জবান খুলিয়া দিয়াছে। তাহাদের মধ্যে কবি-রাজ ফরহাদ মজহারও অমর হইয়া থাকিবেন। ক্রমে দেখা যাইতেছে নাস্তিকেরাই যত রাজাকার আর জামায়াতে ইসলামীর রক্ষাকবচ হইয়া উঠিতেছে। কিন্তু গুপ্তহত্যার এই চোরাচালানটুকু না ধরিলে জামায়াতের রাজনীতি ঠিক পরিষ্কার হইবে না। ফরহাদের মতন মনীষীদেরও মজলুমের পক্ষে দাঁড়াইবার যে ঘোষণা তাহাও চমৎকার গীতিকবিতার মতন শোনাইবে।

কেননা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলনটিকে তাঁহারা শুদ্ধ আওয়ামী লীগের হিংসার কারণ আকারে বলিতেছেন। যেন লীগের লোকেরা বাদে গোটা দেশের মানুষ কেহই আর খুনি রাজাকারের বিচারের দাবি তুলিতেছে না। তাঁহাদের এই যুক্তির ধারা বিস্ময়ে তবদা খাইবার মতন — তাহাতে হিটলারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মহাত্মা স্টালিনকেও মার্কিনি অনুচর বলিয়া মনে হইতে থাকিবে।

এইদিকে ফরহাদের দোসর জনাব মাহমুদুর রহমান সকল কিছুকে ছাড়াইয়া গিয়াছেন। তাহার পত্রিকা আনন্দবাজারকেও ফেল মারিয়াছে। শাহবাগ আন্দোলনের সমালোচনা তিনি করিতেই পারিতেন। কিন্তু জনৈক আল্লামা শফীর বরাতে তিনি যে বিজ্ঞাপন ছাপাইয়াছেন — চতুর আদমি বলিয়া সরাসরি ছাপান নাই — তাহা কি মিথ্যার বিষে ঠাসা নহে? এই মিথ্যাসহ আরো মিথ্যা হররোজ ভাল দামেই তিনি বেচিতেছেন। কিন্তু গত কয়দিনে নিহতের সংখ্যা যে ৬০ ছাড়াইয়াছে তাহা শুদ্ধ ‘সকল দোষের দোষী’ পুলিশের স্কন্ধে চাপাইয়া দেওয়া যাইবে ভাবিলে ভুল হইবে। তিনটা সত্যের সহিত সাতটা মিথ্যা মিশাইয়া তিনি যে সরল মাদ্রাসা ছাত্রটিকে ফুসলাইতেছেন ইহার উদ্দেশ্য কিছুমাত্র গোপন নহে। গৃহযুদ্ধের লাগাতার উস্কানির নেপথ্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাইবার তাঁহার কুমতলবখানি তো পুরাই পরিষ্কার। মধ্যিখানে এসলামকেও ব্যবহার করিতে ছাড়িলেন না। মওদুদীর এই শিষ্যকুলের কি ভাবশিষ্যকুলের ‘এসলাম গেল গেল’ রব বা এই অধর্মপনা একেবারে নতুন নহে।

১৯৭১ সনে জামায়াত এই দেশে এসলামের জামা পরাইয়া যে কলঙ্কের তাজমহল গড়িয়াছিল তাহা খোদ এসলামের তরফে বিরাট বিব্রতকর। খুনি-লুটেরা-নারী নির্যাতনকারী আলবদর বাহিনী গঠন করা হইয়াছিল পবিত্র বদরের যুদ্ধের নাম ভাঙ্গাইয়া। শতে একশজন জানে এইরকম উদাহরণ আরো দেওয়া যাইবে। ফলে এক্ষণে আরেক টুকরা প্রশ্ন হাজির হইতেছে। গত ৪২ বছরে ঠিক কয়খানা এসলামপন্থী দল (বা বিবিধ ‘পলিটিকাল’ এসলামবাদী পাঠচক্র) এই তাজমহল গুড়াইয়া দিতে আগ্রহী হইলেন? বরং তাহাদের কেহ কেহ ‘গোলাম আযম বড় ভাষা সৈনিক ছিলেন’ বলিতে বড়ই উৎসাহী।

ঠিক এইখানে দেশের জনগণ একটা বিরাট পাশ দিয়া ফেলিয়াছেন। তাঁহারা মুক্তিযুদ্ধের সময় যেমন অসাম্প্রদায়িক চেতনার পরীক্ষা দিয়াছেন। আবার তাঁহারা যে ধর্মপ্রাণ বটেন — এই কথার বিপক্ষে নিশ্চয় আরেক মীরজাফরকে আবার কুষ্ঠরোগে ধরিবার পূর্বে হাজির করিতে হইবে।

তদুপরি জামায়াতকে ফের নবপ্রাণ দিতে একশ্রেণির আর্টকালচার ও পলিটিশিয়ান-বুদ্ধিজীবীর ভূমিকা অতি সামান্য নহে। ইহারা নাটক সিনেমায় রাজাকারদের দাড়িটুপি পরাইয়া যে বিষবৃক্ষের বাগিচা নির্মাণ করিয়াছেন তাহার ফলাফল মোটেও পক্ষে আসে নাই। মাদ্রাসাছাত্রদের প্রতি তাঁহাদের যে ঘৃণা তাহা জাতির যেকোন সংকটের মুহূর্তে আরো বেশি অবিশ্বাস ছড়াইয়া দিতেছে। মনে রাখিতে হইবে মুক্তিযুদ্ধে ইহাদের যত না অংশগ্রহণ বা নতুন দেশের প্রতি কমিটমেন্ট তাহার চাইতে বিজ্ঞাপন বেশি। ফলত জনগণের রাষ্ট্র গড়িবার যে ব্যর্থতা, শাসকশ্রেণির হররোজ যে বেইমানি তাহার সহিত এইসব নাটক সিনেমা বিজ্ঞাপন যুক্ত হইয়া পরিস্থিত আরো শোচনীয় করিয়া তুলিয়াছে।

কাদের মোল্লার বিচারের পূর্বে তদন্তে যে গাফেলতি হইয়াছিল তাহা এখন সকলেই জানেন। আরো নানান কারণে আন্দোলনকর্মীদের সরকারের প্রতি উষ্মা থাকাটা কিছুমাত্র অস্বাভাবিক নহে। তদুপরি বিভিন্ন মত ও পথের বহু মানুষ রাজাকারের বিচারের দাবিতে এককাট্টা হইয়াছেন। নানান বিষয়ে তাঁহাদের তর্ক ও আলাপ চলিতেছে। আমরা বলিব, এই তর্ক ও আলাপ খুবই জরুরি।

কিন্তু আলাপের আসরে কেহ কেহ দুইচারিজন অতি উৎসাহী ও পরমত অসহিষ্ণু আন্দোলনের কর্মীদের যাকে তাকে ‘জামায়াতি’ বা ‘রাজাকার’ বলিয়াও গাল পাড়িতেছেন। ইহা অতীব ন্যাক্কারজনক হইতেছে। তাহারা চলমান আন্দোলনকে ইতিহাসের ধারাবাহিকতার বাইরে একটি খণ্ড নাটিকা ভাবিয়া ভুল করিতেছেন। আন্দোলনের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাটুকু দেখিতে পাইতেছেন না। শুদ্ধ বলিব, কেবল আওয়ামী লীগের যাত্রাভঙ্গ করিবার বিনিময়ে জাতির নাককাটার শপথ লইয়া কেহ আন্দোলনে শামিল হন নাই। আর ইহাও তো অসত্য নহে যে ১৯৯১ হইতে ২০০৬ সন পর্যন্ত জামায়াত বিভিন্ন দলের সহিত লেজুর হইয়া সরকারে অবস্থান করিতেছিল। বাংলাদেশে আর কোন রাজনৈতিক দলের টানা এতদিন পনের বছর সরকারে থাকিবার দৃষ্টান্ত নাই। প্রধান দুই রাজনৈতিক দল কি এই দায় এড়াইতে পারিবেন?

মূলত জিয়া ও এরশাদের আমল থেকে জামায়াত নেতারা সরাসরি সরকারি স্নেহ পাইয়া আসিতেছে। বড় বড় দলগুলা ভাবিতেন বামপন্থীদের নিধনে তাহারা জামায়াতকে বেশ ব্যবহার করিতেছেন। টানা তিনটি দশক তো ইহাই করিয়া গেল। ফলে সাঈদীর রায়ের দিন দুপুর হইতে সারাদেশে তাহারা যে হত্যাযজ্ঞ আর মন্দির ভাঙ্গার তাণ্ডব শুরু করিল কি কয়েকদিন আগে মাত্র শহিদ মিনার উপড়াইয়া ফেলিতে তাহাদের যে ধৃষ্ঠতা তাহা তো এমনি এমনি নহে।

শুনা যাইতেছে আর মাস কয় পরেই নাকি ভোট। সেই উপলক্ষে যাহারা রাজাকারের বিচারের দাবি নিয়া হাজির হইতেছেন তাহারা হয়ত দ্বিতীয় দফা আটক হইলেন। কেননা দেশের সকল রাজনৈতিক দল দিয়া একবার না একবার আটক তো হইয়াই আছেন। ভোটের সময় তাঁহাদের নির্বাচন আর ‘সোফির নির্বাচনে’র মধ্যে আদৌ ইতরবিশেষ কিছু ঘটে কি? শুদ্ধ একটা ঘটনা বলিয়া এই লেখা শেষ করিব।

অন্তত দশ বার বছর আগে একটি সালিশ বৈঠকের কথা শুনিয়াছিলাম। এক বড়লোক মাতবরের ছেলে একটি গরিব কৃষকের মেয়েকে ধর্ষণ করিয়াছে। ইহার বিচারে সালিশটি বসিয়াছিল। সালিশের শুরুতে কৃষকের মেয়েটিকে দুই পাঁচটা কড়া কথা শুনিতে হয়। বাংলার সোনালি আঁশ যাহারা ফলান সেই গ্রাম্য কৃষককুলের মেয়েরা সচরাচর পাটগাছ একটু বড় হইয়া গেলে আর স্কুলে যান না। সেই পাট মৌসুমে নিজেরাই একটা ভ্যাকেশন তৈয়ার করিয়া লয়েন। তবে কেন এই মেয়েটি স্কুলে যাইবার পথে সেইদিন পাটক্ষেতে আসিয়াছিল?

মাতবরের ছেলেকে গোটা দশ নরম জুতার বারি আর কিছু অর্থদণ্ড দিয়া বিচার শুরু হইল। সালিশ চূড়ান্ত রায়ে বলিলেন, মেয়েটির যেহেতু আর কোথাও বিবাহ হইবে না অতয়েব ধর্ষকের সাথেই বিবাহ ঘটুক। যেন দরিদ্র কৃষকের বড়লোকপাত্রে কন্যাদানই শুদ্ধ ক্ষতিপূরণ হইয়া গেল।

অবাক হইবার কি আছে? যে সমাজ গঠনে কোন ন্যায়বিচার নাই — ন্যায়বিচারের কোন বালাই নাই, শুদ্ধ সিন্ডিকেট আর সিন্ডিকেট — সেইখানে আকছার এমন ঘটনাই তো ঘটিয়া থাকে। আওয়ামী লীগ কি বিএনপি কি জামায়াত কি আর আর দল, এমনকি সুশীল সমর্থিত সেনা সরকারেরাও দেশের মানুষের সাথে এইরকম ছকের সালিশ করিয়াই চলিতেছেন। ইহাই তাহাদের সহজ সরল রাজনীতি ব্যবসায়। রাজাকার কাদের মোল্লার মত দাগী খুনির মামুলি যাবজ্জীবন এবং তৎ-পরবর্তী সহিংসতা — এই ধরনের সালিশ আর জোড়াতালি দিয়া চলিবার কুফল হইয়া আসিয়াছে।

অতয়েব, চলমান শাহবাগ আন্দোলনে একদিকে যেমন যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ বিচারের দাবিতে অনড় থাকিতে হইবে। তেমনি জনগণের নতুন রাজনৈতিক শক্তি (বা দলের) কথাও ভাবিতে হইবে। অদূর আগামীকালের দিকে তাকাইলে আর যে কোন বিকল্প খাড়াইয়া নাই।

গরিব পোন্দানি ব্যবসায় – তুষার হাসান মাহমুদ

গরিব পোন্দানি ব্যবসায়

কত না দিওয়ানা বানাইছে

কয় কি, কত টুইনটাওয়ার সাক্ষীগোপালও কয়

ইসলাম তাইলে সন্ত্রাস

এই দেশে তার গায়ে রাজাকারের জামা,

তো দেখি রাজাকারেরাই ঠিক ঠিক তাগো ডিলারশিপ নিছে

আর তুমি শুনছ আর তারা দীনের নামে বাজার খাইছে

আর তুমি ৪২ বছরেও পার না রাজাকারের বিচার,

আর তুমি জান তো নাই তোমার রাগের কারণ

তুমি বোবা। আমারই মতন হাবা। রাজনীতি নাই

আয়নায় মুখোমুখি মোরা ভোদাই দুটি ভাই

খাওয়া নাই ঘর নাই সংসার ভাড়াবস্তি

চামড়ায় রোগ তাই পারফিউম লাগে

ঠিক যেমন তারা কইছে আর ধুমাইয়া বেঁচছে

যেহেতু কমিউনিস্ট মানেই নাস্তিক।

গরিব পোন্দানি ব্যবসায়

কত না বিশ্বজিৎ বানাইছে