Tag Archives: আলী রীয়াজ

ধর্মের প্রশ্ন, জামায়াতি চাল – আলী রীয়াজ

 

যে কোন সংগ্রামে লড়াইয়ের ফ্রন্ট হয় দুটো – একটা হলো মাঠে, আরেকটা হলো এই সংগ্রামকে কিভাবে বর্ণনা করা হচ্ছে বা ফ্রেম করা হচ্ছে তাতে। গত কয়েক দিনে জামায়াত ও তার সমর্থকরা চেষ্টা করছে যেন এই গনজাগরণকে ধর্মের ফ্রেমের মধ্যে ফেলা যায়। প্রচলিত রাজনীতিবিদরা এই বিতর্কে থাকতে চাইলে অবাক হবার কিছু নেই। আন্দোলনের পক্ষের শক্তি যতই এই নিয়ে বাখ্যা দেবে ততই জামায়াতের এই চেষ্টা সফল হবে। পাশাপাশি আন্দোলন ততই মূল জায়গা থেকে সরে যাবে। তাই রাজপথে বিজয়ের পাশাপাশি এখন দরকার হল আলোচনাকে আন্দোলনের মূল জায়গায় ফিরিয়ে আনা। দাবিগুলোকে বারবার তুলে ধরা। এবং সেগুলো অর্জনের জন্য সরকারের উপর চাপ দেয়া। সাধারণ জনগণকে বলা যে জামায়াত সমর্থক প্রতিষ্ঠান কিভাবে বর্জন করতে হবে এবং অহিংসভাবে কি করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়তে হবে। ধর্মের প্রশ্নকে আলোচনার মুখ্য বিষয়ে পরিণত করে তোলার চেষ্টাকে সফল হতে দিলে মাঠের বিজয়কে ধরে রাখা যাবে না।

প্রথম প্রকাশ: ফেসবুক, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩

আন্দোলনের শত্রুমিত্র – আলী রীয়াজ

লাকী আক্তারের ওপর যারা হামলা করেছে তাঁরা এই আন্দোলনের মিত্র হতে পারে না। এই হামলার নিন্দা করাই যথেষ্ট নয়, তাঁদের ব্যাপারে সজাগ থাকাও এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় কাজ। এই আন্দোলনকে নস্যাৎ করার জন্য আক্রমণ কেবল বাইরে থেকে আসবে তা মনে করার কারণ নেই। আন্দোলনের ভেতরে প্রবেশ করে তাকে দুর্বল করে দেয়ার চেষ্টা হবে, তাঁর সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হবে– এটা আশা করি আন্দোলনের কর্মী সংগঠকরা ইতিমধ্যে উপলব্ধি করছেন। এটাও মনে রাখা দরকার যে এই দায়িত্ব কেবল সমাবেশের উদ্যোক্তাদের নয়। যারা এই আন্দোলনের সমর্থক, যেখানেই থাকুন না কেন, এই দায়িত্ব আমার আপনার ওপরেও বর্তায়। তরুণ জনসমাজের এই আন্দোলনকে যারা প্রচলিত রাজনীতির ঘেরাটোপে বাঁধতে চাইছেন তাঁদের ব্যাপারে সজাগ না থাকলে জাগরণের স্বপ্নভঙ্গ বলেই এই আন্দোলন চিহ্নিত হবে। এটা কারা চান সেটা নিশ্চয় বিস্তারিত বলার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশের যে রাজনীতিবিদরা গত এক দেড় দশকে তরণদের স্বপ্ন ধারণের মত রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি করতে পারেন নি তাঁরা এখন এই সমাবেশে এসে নতুন কি বলতে পারেন? তাঁদের এই বক্তব্য কি প্রতিদিন এই তরুণেরা শোনেন নি? তাঁদের প্রতি সবিনয়ে অনুরোধ, দয়া করে আপনারা এই আন্দোলনের পথে বাধা হবেন না। আপনাদের সমর্থনের জন্য উপস্থিতির প্রয়োজন নেই, আপনারা চাইলে এর চেয়েও বেশি ভূমিকা রাখতে পারেন আপনাদের নিজস্ব অবস্থান থেকে। এর চেয়ে বড় সমর্থন ও ইতিবাচক ভূমিকা আর কিছুই হবে না।

প্রথম প্রকাশ: ফেসবুক, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩