সম্পাদকীয়

সজ্ঞানে বজরং

উপনিবেশ মুক্তির তাত্ত্বিক ফ্রানৎস ফানোঁ তাঁহার ‘জগতের লাঞ্ছিত ভাগ্যাহত’ বহিতে উপনিবেশের অবসান কিরূপে ঘটে, উপনিবেশ কি ব্যবস্থা কায়েম রাখে এবং উপনিবেশের বিলোপ ঘটিলে সমাজের-রাষ্ট্রের কি চেহারা দাঁড়ায় এইসব বিষয়ে বহু মূল্যবান সাক্ষ্য দিয়াছেন। তিনি বলিয়াছেন উপনিবেশ হইতে যে সমাজ ও রাষ্ট্র মুক্তিলাভ করিবে সেখানে ‘প্রথম শেষ হইবে আর শেষ হইবে প্রথম’।অর্থাৎ সেই সমাজ হইবে নতুন সমাজ আর নতুন সমাজ মানেই বিদ্যমান কাঠামের মৌলিক পরিবর্তন সাধন করিয়া গড়িয়া উঠা সমাজ।

জনগণের রাজনৈতিক অভ্যুদয়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াইয়া যাহারা দখলদার বাহিনীর সঙ্গে সহযোগ করিয়াছে এবং হত্যা নির্যাতন লুটপাটে অংশ নিয়াছে তাহাদের বিচার না হওয়ার বিষয়টা কি প্রকারান্তরে জনগণের পরাজয়ের সহিত যুক্ত নহে? ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ উপমহাদেশে জাতিসমূহের কারাগার ভাঙ্গিবার জন্য প্রেরণা হিশাবে হাজির হইয়াছিল। আজ যাহারা রাজাকারদের বিচারের দাবিকে ভারতের চক্রান্ত বলিয়া প্রচার করিতেছে তাহারা সজ্ঞানে বজরং। তাহাদের কথায় বার বার ১৯৭১ সাল মনে পড়িয়া যায়। সেদিনকার যুদ্ধেও তো পাকিস্তানি হানাদারের সুরে সুর মিলাইয়া তাহাদের দোসর রাজাকার আলবদর আলশামসরা ভারতীয় চক্রান্ত খুঁজিয়াছিল। সেই দিনের মুক্তিকামী মানুষের বোধকে যেইভাবে অপমান করা হইয়াছে আজও তাহার কম করিতেছে না যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাইতে তৎপর এই নব্য রাজাকারেরা। ইহাদের ক্রমবর্ধমান অপপ্রচারের বিরুদ্ধে জনমত গড়িয়া তোলা এই মুহূর্তের অন্যতম কর্তব্য।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s