Daily Archives: ফেব্রুয়ারি 19, 2013

সম্পাদকীয়

মিথ্যাচার করিয়া ন্যায্য আন্দোলন দমানো যায় না

একদিকে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে আন্দোলন যেমন চলিতেছে অন্যদিকে আন্দোলন বিষয়ে অপপ্রচার ও মিথ্যাচারও থামিয়া নাই। বলাবাহুল্য জামায়াত শিবির ও নানান ধরনের বিভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গ এইসব মিথ্যাচার করিতেছে। আমরা দেখিতেছি এই আন্দোলন বিষয়ক তাহাদের বক্তব্য দুই একটা খাত ধরিয়া চলিতেছে। তাহারা এই আন্দোলনে যে সমস্ত মানুষ জড় হইয়াছে এবং অকুস্থলে অবস্থান করিতেছে তাহাদের বিষয়ে নানান মিথ্যা গালগল্প বলিয়া দেশবাসীর মনে বিদ্বেষ ছড়াইতে সচেষ্ট আছে। যাহারা আরেকটু বেশি চালাক তাহারা জনগণের দাবি বিষয়ে স্পষ্ট কোন কথা না বলিয়া আশে পাশে এটা সেটা বলিতেছেন। ‘বাঙালকে হাইকোর্ট দেখানো’ বলিয়া যে একটি কথা প্রচলিত আছে তাহাদের কথাবার্তা শুনিলে সে কথাই মনে আসে। ইতিহাসে জনগণের ন্যায়দাবির বিপক্ষে মিথ্যাচারের নজির অল্প নহে। মনে পড়ে পূর্ব বাংলার ছাত্র জনতা যখন ভাষা আন্দোলন করিতেছিল ১৪৪ ধারা ভাঙিতেছিল — পাকিস্তান সরকার তখন বলিয়াছিল, এসব ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, কলকাতা থেকে হিন্দু ছেলেরা আসিয়া পায়জামা কুর্তা পরিয়া মিছিল করিতেছে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিটি একটি জাতীয় দাবি। এই দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনের মধ্যে জাতীয় চেতনা গড়িয়া উঠিবার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু দাবিটি যৌক্তিক হইলেই তাহা এমনি এমনি কায়েমে মোকাম হইয়া উঠে না। ফ্রানৎস ফাঁনো, আহমদ ছফা প্রমুখ মহাত্মাদিগের বরাতে আমরা জানি, জাতীয় চেতনা লড়াই করিয়া প্রতিষ্ঠা করিতে হয়। এই লড়াইয়ে পথের চোরা ফাঁদগুলিকেও দূর করিতে হইবে। ব্যাপক জনগণের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়া জাতীয় চেতনা গড়িয়া তুলিবার প্রাথমিক কাজ শুরু হইবে এবং মিথ্যাবাদীরা ভাসিয়া যাইবে।

মানবাধিকার ও মৃত্যুদণ্ড বিষয়ক অধিকন্তু – সলিমুল্লাহ খান

সম্প্রতি — মানে বেশিদিন হয় নাই — দুনিয়ার কোন কোন দেশে অপরাধের প্রতিকারস্বরূপ অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের আইনটি রহিত করা হইয়াছে। আমরা বিশেষ করিয়া এয়ুরোপিয়া যুক্তরাষ্ট্রের উদাহারণটা স্মরণ করিতেছি। এই উদাহারণ ভর করিয়া অনেকে বলিতেছেন মৃত্যুদণ্ডের মতন কঠিন সাজা মানবাধিকারের লঙ্ঘন। কথাটা ফেলিয়া দিবার জিনিশ নহে। তবে তাহাকে ইতিহাসের মধ্যে যাচাই করিয়া দেখিবার দরকার আছে। যেখানে তরল সাজায় কাজ হয়, সেখানে কঠিনে কাজ কি? একসময় এয়ুরোপ মহাদেশে — বিশেষ করিয়া ইঙ্গদেশে সামান্য চুরির শাস্তিও ছিল মৃত্যুদণ্ড। মাত্র পাঁচ পাউন্ড চুরি প্রমাণিত হইলেও ইংলন্ডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হইত। এই আইন কখন হইতে চালু হইয়াছিল জানা যায় না। তবে উনিশ শতকের গোড়ায় পর্যন্ত এই আইন রহিত করা হয় নাই। শুদ্ধ তাহাই নহে, ইংরেজি ১৮২৫ সালের আগে পর্যন্ত শিল্প বিপ্লবের দেশ খোদ ইংলন্ডে শ্রমিকশ্রেণির ট্রেড এয়ুনিয়ন বা শ্রমিক সমিতি গড়ার অধিকার ছিল না। কেহ এই রকম সমিতি গঠার চেষ্টা করিলেই শাস্তি দেওয়া হইত। সে শাস্তি ছিল — বলা প্রয়োজন — মৃত্যুদণ্ড।

স্যার টমাস মোরের ‘এয়ুটোপিয়া’ নামক অতিবিখ্যাত বহি পঠিলে জানা যায় ষোল শতকের ইংলন্ড দেশে ছিচকা চোর ধরিয়া ধরিয়া ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলান হইত গণ্ডায় গণ্ডায়। সেই বইয়েরই একটি আইনজ্ঞ চরিত্র জানাইতেছেন ইংলন্ডের সর্বত্র চুরির অবধারিত শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড। কোন কোন দিন একই ফাঁসিকাষ্ঠ বা যূপকাষ্ঠ হইতে কুড়িজনকে ফাঁসিতে ঝোলান হইয়াছে। কি পরিমাণ লোককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হইত তাহা এতদিনে অনুমান করাও কঠিন।
রাজা অষ্টম হেনরি সিংহাসনে আরোহণ করিলেন ১৫০৯ সালে। শুদ্ধ তাঁহার রাজত্বকালেই — একজন ইতিহাসবিদ দেখাইয়াছেন — ঐ দেশে মোট ৭২,০০০ চোরকে ফাঁসিতে লটকাইয়া মারা হইয়াছিল। (মোর ২০০৩: ১৫)
তাহাতে কি চুরির প্রকোপ কমিয়াছিল? টমাস মোর রচিত আইনজ্ঞ পাত্রটি বলিতেছেন, কমে নাই। টমাস মোরের বইটি লেখা হইয়াছিল ১৫১৬ সালে। সেই বইয়ের পাত্রটি বিস্মিত। কারণ তিনি জানেন খুব কম চোরই তখন আইনের হাত এড়াইতে পারিত। তবু দেশে এত চোর পয়দা হইত? ভাবিয়া অবাক তিনি।

এতদিনে ইংলন্ড কেন, সারা এয়ুরোপে আর মৃত্যুদণ্ড নাই। অনুমান করা অন্যায় নহে, এই সব দেশে ছিচকা চুরিও কমিয়া আসিয়াছে। কেন ও কিভাবে? ইহাই ভাবিবার বিষয়।
টমাস মোর পরামর্শ দিয়াছিলেন মৃত্যুদণ্ড রহিত করিতে। তাহার যুক্তি ছিল মানুষকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়া জীবিকা আয় করার সুযোগ দিলে বরং চুরির প্রকোপ ঢের কমিয়া যাইবে। তিনি বলিতেছিলেন, মানুষ চুরি করে জীবনধারণের মতন প্রয়োজনের তাগিদে। আর সেই চুরি করিতে গিয়া তাহাকে প্রাণের ঝুঁকি লইতে হয়। প্রয়োজনে দিতে হয় প্রাণ। অথচ প্রয়োজন পূরণের বা প্রাণ বাঁচাইবার অন্য উপায় থাকিলে সে চুরির পথে পা বাড়াইত না।
টমাস মোরের উপদেশ ইংলন্ড কিন্তু শোনে নাই। এয়ুরোপও না। এই এতদিনে এয়ুরোপের চৈতন্য হইয়াছে। তাহারা বলিতেছেন মৃত্যুদণ্ড মানবাধিকারের লঙ্ঘন। অপরাধ তা যতই নিষ্ঠুর ও অমানবিক হোক না কেন মৃত্যুদণ্ড না দেওয়াই বিধেয়। মনে রাখিতে হইবে এই জায়গায় আসিতে এয়ুরোপ মহাদেশকে কমপক্ষে পাঁচশত বৎসর পার হইতে হইয়াছে।
একটা সওয়াল পেশ করিলেই বিষয়টি আরেকটু পরিষ্কার হয়। সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ বা জাতিসংঘ কেন মাত্র ১৯৪৮ সালে ‘সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা’ নামক দলিলটি গ্রহণ করিলেন? এক কথায় ইহার জবাব নাই। দুই কথায় বলা যায়, এয়ুরোপের দুই মহাযুদ্ধ না ঘটিলে হয়তো এই দলিলের জন্ম আরো বিলম্বে হইত। এই দলিলটিতেও কিন্তু মৃত্যুদণ্ড মানবাধিকারের লঙ্ঘন কথাটি বলা হয় নাই। জার্মানির বা জাপানের যুদ্ধাপরাধী রাজনীতিবিদ ও সমরনেতাদের মৃত্যুদণ্ড কোন সময় দেওয়া হইয়াছে? এ দলিল যখন গ্রহণ করা হইতেছিল তখনই নয় কি?
এয়ুরোপের ইতিহাস যদি কোন শিক্ষা দিয়া থাকে তাহা এই যে মৃত্যুদণ্ড দিয়া চৌর্যবৃত্তি বন্ধ করা যায় না। অধিকন্তু বলা চলে যে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিকল্প নাই। যে দেশে ন্যায়বিচার আছে সে দেশে মানুষ না খাইয়া মরিবে কেন? সে দেশে মানুষ চুরিই বা করিবে কেন? অতয়েব অভাবের রাজত্ব আর ন্যায়ের রাজত্ব একসাথে চলিতে পারে না। যে দেশে ন্যায় আছে সে দেশে চুরির প্রসারও সংকুচিত হইবে — এমনকি উঠিয়াও যাইতে পারে।
মৃত্যুদণ্ডের বিধানকে আরেক দিক দিয়াও দেখা যাইতে পারে। সেই দিকের নাম জন্মনিয়ন্ত্রণ। বর্তমান যুগের এয়ুরোপে একটি জনসংখ্যা সমস্যা দেখা দিয়াছে। এই মহাদেশের প্রায় প্রত্যেক দেশেই জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমিয়া গিয়াছে। অথচ বাংলাদেশের মতন দেশে জনসংখ্যা এখনো বৃদ্ধি পাইতেছে। মনে রাখিবেন, জনসংখ্যা সমস্যা দুই দুইটি। একটি নহে।
এয়ুরোপের ইতিহাস শিক্ষা দিতেছেন যে আর্থিক ও বৈষয়িক উন্নতি ঘটিলে মানুষ আপনার ইচ্ছাতেই পরিবার আকারে ছোট করিয়া তোলেন। আর আমাদের দেশে তাঁহারা প্রচার করিতেছেন জনসংখ্যা কমিলেই মাত্র শনৈ শনৈ আর্থিক ও বৈষয়িক উন্নতি ঘটিবে। তাঁহাদের দেশে উন্নতির ফলে জনসংখ্যা কমিতেছে আর আমাদের দেশে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ফলে উন্নতি ঘটিতেছেন। সকল প্রশংসা জন্ম-শাসনের।
অপরাধ আর শাস্তি বিষয়েও বোধ করি একই তুলনা চলিবে। এয়ুরোপে সামাজিক অগ্রগতি মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করিতে সাহায্য করিয়াছে। আর তাঁহারা বলিতেছেন, বাংলাদেশের মতন অভাগা দেশে মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করিলে হয়তো সামাজিক অগ্রগতি ঘটিবেন।
প্রস্তাবটা ভাবিয়া দেখিবার মতন। দুর্ভাগ্যের মধ্যে, আমরা দুই পৃথিবীতে বাস করি না। দুনিয়া আমাদের একটাই। এই একটি দুনিয়ায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই মৃত্যুদণ্ড রহিত করিবার একমাত্র পথ। মৃত্যুদণ্ড রহিত করিলেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হইবে এমন কোন প্রমাণ আজ পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায় নাই।

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩

দোহাই

Thomas More, Utopia, trans. R M Adams, eds. G M Logan and R M Adams, revised ed

 

জনমত

জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করার অধিকার নেই
গত ১৭ ফেব্র“য়ারি ২০১৩ তারিখে বিডিনিউজ২৪ ডটকম পরিচালিত নিয়মিত জরিপের বিষয়বস্তু ছিল নিম্নরূপ:
‘মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীর কোনো অধিকার নেই বাংলাদেশে রাজনীতি করার। সারাদেশে জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি ওঠার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?’

বিডিনিউজের বাংলা হোমপেজের মাধ্যমে পরিচালিত এই জরিপে মতামত দিয়েছেন ১৯ হাজার ৭৩২ জন। যাদের মধ্যে ৯০ শতাংশই তাদের উত্তরে বলেছেন ‘হ্যাঁ’। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর মতো তারাও মনে করেন, বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। বাকি ১০ শতাংশ পাঠক ‘না’তে ভোট দিয়েছেন অর্থাৎ তারা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে একমত নন।

সূত্র: বিডিনিউজ২৪ ডটকম

পাহারা দিতে হবে শাহবাগ – যিশু মোহম্মদ

শাহবাগের সম্ভাব্য অর্জনগুলো তরুণ-জনতার — যারা অতীত ইতিহাস মোকাবিলার মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতের বীজ রুয়ে দিয়েছে সমাজে, যাদের অধিকাংশই কোন দলবল করে না। তাই শাহবাগকে আওয়ামী-বিএনপি-করণের হাত থেকে রক্ষাও করতে হবে তরুণদের। সর্তক থাকতে হবে। অসর্তকতার কারণে অনেক কিছুই উল্টো বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। ভুলে গেলে চলবে না সরকারের গড়িমসিতে, আঁতাত টের পেয়ে, সরকারের প্রতি অবিশ্বাস থেকে, আদালতের রায় ইত্যাদিকে কাঁচকলা দেখিয়েই তরুণরা এক হয়েছিল সারাদেশ থেকে। অতএব শাহবাগের ভাগীদার একমাত্র তরুণ জনগণ। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ যেমন আওয়ামী মালিকানাধীন তৎপরতা নয়, শাহবাগও নয়। কিন্তু শাহবাগের ক্রমশ পরিণতিকে পাহারা দিতে হবে এখানো। জামাত-বিএনপি শাহবাগের ধারে কাছেও ভিড়তে পারবে না। প্রতিশ্র“তি পূরণের কৌশলে আওয়ামী সরকার শাহবাগে থাকলেও গিলে খেতে যেন না পারে সেই হুঁশ তারুণ্যকে জারি রাখতে হবে।
অবশেষে জনগণের ইতিহাস যেন শাসকশ্রেণির করায়ত্ত না হয়। জয় বাংলা।

প্রথম প্রকাশ: ফেসবুক, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩

সুনির্দিষ্ট আল্টিমেটাম জরুরি – মির্জা মো: অদ্বিত রহমান

আমি শংকিত ধৈর্যহীনতায়। সহিংস সংগ্রাম আমাদের সর্বশেষ অস্ত্র। আমাদের আরো প্রস্তুত ও সংগঠিত হয়ে আন্দোলনকে বেগবান করতে হবে… তবে, অবশ্যই সজাগ থাকতে হবে যেন আমাদের দাবি-দাওয়া আমাদের প্রত্যাশামত পূরণ হয়। রাজনীতির ফাঁক গলে জনতার রায়ের প্রতিফলনে যেন কোন ব্যত্যয় না ঘটে তা খেয়াল করা প্রতিটি যোদ্ধার দায়িত্ব।
সহযোদ্ধারা, আসুন আমরা সুনির্দিষ্ট [আল্টিমেটাম] প্রদান করি যেন প্রতিটি সহযোদ্ধা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে কাজ করতে পারে। (যেমন, প্রথম আল্টিমেটাম হতে পারে নির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত সময় বেঁধে দেওয়া যেন তার মধ্যে সকল যুদ্ধাপরাধীর প্রাথমিক রায় জনগণ দেখতে পারে।) আরো মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে আমাদের কাজ করতে হবে। সকল প্রকার বিভ্রান্তি রুখে দিতে কার্যকর পরিকল্পনাও আমাদেরকে প্রণয়ন করতে হবে।
আন্দোলন যেন কোনভাবেই মন্থর না হয়ে যায় তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের সকলের।
জয় বাংলা।

প্রথম প্রকাশ: ফেসবুক, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩

যাহ ভাগ! – নাসিফ আমিন

মুইও চামে দিয়া
নাম লইতে চাইলাম আন্দোলন
লেকিন বামে দিয়া
যার যার মনে খুশি
তিনি তিনি মোরে
হরদম লাগাইয়া লন!

লাগাইয়া লন হরেক রকম
আগজনমের ছাপ্পর
মাজুল কবিগাল পাতিয়া দিলাম
মারুন, কমরেড কষা কষা
শুদ্ধ বিপ্লবী থাপ্পড়!

হায়রে মোর পূর্বপিতা
কেন যে জিন্নাহের কোর্তা ছাড়েন নাই
হেই আয়েবে সকলে মোরে
হারায়া ফেলেন গায়েবানায়!

হায়রে বিপ্লব, তোমারে বিছরাইরা কভু
পিতার অই মোটামোটা গান গাই নাই
তাই পিতার পুত্রেরা মোরে
বিলকুল ভাই জ্ঞানে জানে নাই!

হেন এতিম কপালে জুটিবে কি কোন
আন্দোলন কিম্বা বিপ্লব
বাজে কাব্যের ভাগ্য নিয়া তাই
গোপন করি ছলছল আঁখিপল্লব!

প্রথম প্রকাশ: ফেসবুক
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩

শ্লোগান – ইউসুফ মুহম্মদ

তরুণ প্রজন্ম ডাক দিয়েছে
এসো সরল প্রাণ
আমরা গাইবো নিষ্কলঙ্ক
বাংলাদেশের গান
শাহবাগ থেকে নীরবে ছড়ালো
মিছিলে মিছিলে আলো
এই যৌবন প্রথম সকাল
অন্ধকে চোখ দিল
পতাকার রঙে ঢাকা পড়ে নীল
বক-ধার্মিক, রাজাকার বুক
কেঁপে কেঁপে ওঠে
তোমার শ্লোগান সীমানা পেরিয়ে
সহস্র কণ্ঠে ফোটে।

তোমার আকাশ মুক্ত করার এই তো কাল
ডাক দিয়েছে দেশ-পতাকা সবুজ লাল।