Daily Archives: ফেব্রুয়ারি 16, 2013

সম্পাদকীয়

জনতার আন্দোলন নতুন পর্বে প্রবেশ করিল

শাহবাগে চলমান আন্দোলনের সংগঠকদের একজন– ব্লগার রাজীব হায়দার রাজধানীতে নৃশংসভাবে খুন হইয়াছেন। আন্দোলন কর্মসূচি থেকে ফেরার পথেই তিনি খুন হন। এ খবর জানা মাত্র শাহবাগ তো বটেই সারা দেশে শোকের ছায়া নামিয়া আসে। রাজীব হত্যার ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের চাপে সংগঠকরা অবস্থান কর্মসূচির যে সময়সূচি নির্ধারণ করিয়া দিয়াছিলেন তাহা বাতিল করিয়াছেন। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে আন্দোলনকারীরা কোন রকম বিভেদ-বিশৃঙ্খলার সুযোগ না রাখিয়া ঐকমত্যে পৌঁছাইয়াছেন। তাহারা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন পূর্ববৎ দিন রাত ২৪ ঘণ্টা চালাইয়া যাইতে স্থির হইয়াছেন।
আন্দোলনে ভীতি সঞ্চার করিবার জন্য জামায়াত-শিবির যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটাইয়াছে এ ব্যাপারে আন্দোলনকারীরা নিশ্চিত। তার আলামতও স্পষ্ট। জামায়াত শিবির তাহাদের ভিত কাঁপিয়া উঠাতে আতঙ্কিত। এ আতঙ্ক তাহারা আন্দোলনকারীদের মধ্যে ছড়াইয়া দিতে চাহে। ব্লগার রাজীব হত্যার মধ্য দিয়া চলমান আন্দোলন নতুন পর্বে প্রবেশ করিল। আন্দোলনকারীদের এখন আরও সংগঠিত হইতে হইবে।
জনগণই ভরসা। অন্য কোন শক্তির সহায়ক হইবে না। জনগণকে তাহার স্বার্থেই সম্প্রদায়িকতা ও ফ্যাসিবাদী ধর্মীয় শক্তির বিরুদ্ধে রুখিয়া দাঁড়াইতে হইবে। এই আন্দোলনে জড় হওয়া জনতার সিংহভাগই মধ্যবিত্ত নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণি হইতে আগত। শ্রমিক-কৃষক মেহনতি মানুষের ভূমিকা ছাড়া কোন মৌলিক সামাজিক পরিবর্তন সাধিত হইবে না। তাহারা যাতে আন্দোলনে যোগ দেয় সে পথ প্রশস্ত করিতে হইবে। জামায়াত-শিবির দেশে বিশৃঙ্খলা ও সম্প্রদায়িক হাঙ্গামা তৈরির চেষ্টা করিবে। সমস্ত শ্রেণি পেশার মানুষের অপূর্ব সংহতির মধ্য দিয়া আমাদের এসব মোকাবেলা করিতে হইবে।

শাহবাগ আন্দোলনের সংগঠক খুন

গতরাত নয়টায় শাহবাগ আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক স্থপতি রাজীব হায়দার শোভন খুন হয়েছেন। পলাশনগরে নিজ বাসার কাছেই এই তরুণ ব্লগারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শাহবাগ প্রজন্ম মঞ্চ থেকে শুরু করে ফেসবুক সবখানেই এই ব্লগার ছিলেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জামায়াত নিষিদ্ধসহ জামায়াত পরিচালিত প্রতিষ্ঠানসমূহ বর্জন আন্দোলনে সোচ্চার। তাঁর সমমনা ব্লগার এবং পরিবারের দাবি জামাত-শিবির বিরোধী লেখালেখি এবং চলমান আন্দোলনের কারণে তিনি খুন হয়েছেন। এই আন্দোলনের শুরু থেকেই জামায়াত-শিবির কর্মীরা তাঁকে হুমকি দিয়ে আসছিল।

শাহবাগ আন্দোলন শুরুর আগে থেকেই তিনি শাণিত ভাষায় লড়ে গেছেন জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে। জামায়াত-শিবির পরিচালিত ব্লগ সোনারবাংলাদেশে ‘শাহবাগের আন্দোলনের পিছনের মানুষগুলো পর্ব-১’ লেখায় রাজীব হায়দারকে ধর্মবিদ্বেষী নাস্তিক ঘোষণা দেয় শিবির কর্মীরা। তবুও তাঁর লেখা থেমে থাকেনি। শেষবারের মত লেখা ফেসবুক পোস্টে তিনি তাগিদ দিয়েছেন জামায়াতের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণে সম্মিলিত ও সুনির্দিষ্ট উদ্যোগের। গতরাত থেকেই তাঁর নামে শ্লোগানে শ্লোগানে মুখর শাহবাগ। তাঁর লেখা, মৃত্যু এই আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

রাজীব হায়দারের সর্বশেষ ফেসবুক পোস্ট

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, আনুমানিক দুপুর ৩টা

[ফেসবুকে ‘থাবা বাবা’ নামে প্রোফাইল পেজটি ছিল রাজীব হায়দারের। সেখানে রাজীব সর্বশেষ দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার প্রথম পাতায় প্রকাশিত ‘হাজারো প্রতিষ্ঠান চালায় জামায়াত-শিবির’ শিরোনামের খবরটি শেয়ার করেন। শেয়ার করার সময় তিনি একটি মন্তব্য যোগ করেন। নিচে সেই মন্তব্যটি তুলে দেওয়া হল। –সম্পাদক]

[জামাত-শিবিরের প্রতিষ্ঠান] কোথায় কিভাবে বর্জন করতে হবে তার রূপরেখা নির্ধারণ করাটা খুব জরুরি। কারণ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কোথায় নেই তারা… একটা বাদ দিয়ে অন্যটাতে যাব, সেখানেও তাদের সেবাই নিতে হবে! আজকে যে ইন্টারনেট সেবা নিয়ে আমরা অনলাইনে আন্দোলন করছি তার মধ্যেও তো জামাতি অংশ আছে… তার মানে কি সর্ষেতে ভূত, নাকি আমরা পয়সা দিয়ে নেটের বাইটস কিনছি বলে সেটা সিদ্ধ!
একটু চিন্তা করা দরকার… একটা সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন খুব জরুরি! কারণ জামাতি প্রতিষ্ঠান বলে যাদের বয়কট করবো, তার মালিকানা রাতারাতি বদলে যেতে পারে… সিম্পল শেয়ার আদানপ্রদানেই মালিকানা বদলে যাবে!
তবে আমার জায়গা থেকে একটা জিনিস আমি বলতে পারি, পরিচিত জামাত সংশ্লিষ্ট পণ্য ও প্রতিষ্ঠান যার যার জায়গা থেকে বর্জন করুন, যেমন তাদের মূল কাগজ সংগ্রাম বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-কোচিং ও তাদের সাংস্কৃতিক সংগঠন!

ব্লগার রাজীব হত্যাকাণ্ড – কর্মসূচি ও দাবি

শনিবারের কর্মসূচি
১. সকালে কালো ব্যাজ ধারণ।
২. শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে বাদ আসর রাজীব হায়দারের জানাজা।

দাবিনামা
১. অবিলম্বে ব্লগার স্থপতি রাজীব হায়দারের হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান।
২. গত চারদিন ধরে এই হত্যাকাণ্ডের হুমকিদাতা খুনী জামাত-শিবিরের অর্থায়নে পরিচালিত সোনার বাংলাদেশ ব্লগকে বন্ধ এবং এই ব্লগ সংশ্লিষ্ট সকলকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।

সিন্ধুকে লুকানো মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন – মাহবুব রশিদ

পেছনে ফিরে তাকালে বিষয়টা অবিশ্বাস্যই মনে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয় নাই। হানাদারেরা ফিরে গেছে। ফিরে বই লিখেছে। সাক্ষাৎকার দিয়েছে।
ভুট্টো মরার আগে বাংলাদেশেও এসেছিলেন। দালালেরা তাকে জিন্দাবাদও দিয়েছে! যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশে মানুষ পুনর্বাসিত হয় নাই। কিন্তু দালালদের পুনর্বাসন হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা যেখানে ভিক্ষা করে, রাজাকারেরা বহাল তবিয়তেই আছেন, সব সরকারের আমলেই।
রাজনৈতিকভাবেও রাজাকার ও তার দল বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন তো জামায়াত ছাড়া হয়ই না। আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক আন্দোলন করেছিল জামায়াতকে নিয়ে পঁচানব্বই-ছিয়ানব্বই সালে।
আজ বিএনপি তাদের নিয়েই তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের আন্দোলন করছে।
বিএনপি আবার আরেক কাঠি সরেস, জামায়াতের তিন লাখ ভোট তারা হারাতে চায় না। তাই জামায়াত থেকে তারা মন্ত্রীও বানিয়ে থাকে। লজ্জা!!
মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা যে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলাম তা গড়তে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। নিদারুণভাবে। আওয়ামী-বিএনপি-জাতীয় পার্টি-সামরিক-বেসামরিক-সামরিক বাহিনী প্রভাবিত-তত্ত্বাবধায়ক-অন্তর্বর্তীকালীন সব সরকারই মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ব্যর্থ।
কিন্তু এখনো জনগণ সে স্বপ্নের জন্য লড়ে যাচ্ছে। তাদের স্বপ্নভঙ্গ হয় নাই। মুক্তিযুদ্ধ এমন একটা চেতনা যা মানুষের মনের সিন্দুকে লুকিয়ে থাকে অমূল্য রত্নের মত। সিন্দুকটা হয়তো খোলা হয় না সব সময়। কিন্তু সময় এলেই মানুষ সেই চেতনা বের করে আনে।
মানুষের উপর আস্থা আমার সে কারণেই। বিএনপি আওয়ামী দ্বি-দলীয় বৃত্তে মানুষ নিজেদের বিভক্ত করেছে। কিন্তু একই সাথে তারা মনের গোপন সিন্দুকে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন লালন করেছে, সংরক্ষণ করেছে।
শাহবাগ সে সিন্দুকে লুক্কায়িত রত্নেরই উজ্জ্বলতা। গতকাল সন্ধ্যায় সে রত্ন হাজারো মোমের শিখায় ঝিলমিল করে উঠেছিল।
বেঁচে থাক সে শিখা। দুহাত দিয়ে তাকে আড়াল করুন রাজাকারের দালালি আর তাদের সাথে আপোসের রাজনীতি থেকে।

প্রথম প্রকাশ: ফেসবুক, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩

বাংলা গারো/মান্দি, কোচ ভাষায় শাহবাগ আন্দোলনের শ্লোগান

সোবো সোবো, ওয়াল সোবো। (সোবাহান সোবো)

জ্বালো জ্বালো, আগুন জ্বালো। (জ্বালোরে জ্বালো)

ফাঁসি লামো, রাজাকারনে ফাঁসি লামো।
ফাঁসি চাই, রাজাকারের ফাঁসি চাই।

নাআ সা আঙা সা? গারো কোচ বাঙ্গালি।
তুমি কে আমি কে? গারো কোচ বাঙ্গালি।

রাজাকারনি বিয়াপকো, সুয়েদবো বিয়েদবো।
রাজাকারের আস্তানা, জ্বালিয়ে দাও ভেঙ্গে দাও।

হনজক হানছি, আরো হননো হানছি।
দিয়েছি যে রক্ত, আরো দেব রক্ত।

ক-ছা কাদের মোল্লা
নাআ রাজাকার নাআ রাজাকার।
ক-তে কাদের মোল্লা
তুই রাজাকার তুই রাজাকার।

ধর্ম আনথাংনি, বাংলাদেশ গিম্মিকনি
ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।

প্রচারে
ইন্ডিজেনাস স্টুডেন্ট ইউনিয়ন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

স্মরণ: জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক – প্রিয়ম পাল

অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের মত অসাম্প্রদায়িক লোক রাশি রাশি মিলে না। যৌবনে তিনি পাকিস্তান আন্দোলন সমর্থন করেন। আবার এই আবদুর রাজ্জাকই ১৯৪৬ সালের দাঙ্গায় নিজের জীবন ত্চ্ছু করে কিছু হিন্দু পরিবারকে মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে আনেন।
প্রশ্ন হল, একজন লোক পাকিস্তান আন্দোলন করেন আবার অসম্প্রদায়িকও বটেন। সেটা কিভাবে সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তর ঠাহর করতে হলে আমাদের পঞ্চাশের দশকের ভারতীয় রাজনীতির দিকে আলো ফেলতে হবে। বাংলার ‘সংশোধন অযোগ্য’ বর্ণহিন্দুরা টাটা, বিরলার সঙ্গে রমণ করে বাংলা ভাঙ্গার দাবি তোলে।
দুনিয়ার এমন কোন শক্তি নাই যেটা বর্ণহিন্দুর বাংলা ভাগ আন্দোলন রুখতে পারে। কবি নজরুল তো সেদিন বাকহারা। এই পরিস্থিতিতে আবদুর রাজ্জাকের চোখে হয়তো কিছুটা জল এসেছিল। কাজেই পাকিস্তান আন্দোলন রাজ্জাকের সাম্প্রদায়িকতার প্রমাণ দেয় না।
১৯৫০ সালে আবদুর রাজ্জাক বিলাত থেকে ফিরে আসেন গবেষণা অসমাপ্ত রেখে। ক্ষুরধার রাজ্জাক নতুন দেশ পাকিস্তানের গতিপ্রকৃতি বুঝতে দেরি করেননি। পবিত্র ইসলামকে পশ্চিম পাকিস্তানিরা পূর্ব পাকিস্তান শোষণের মন্ত্র হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন।
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের আগেই আমরা দেখি মহান নমঃশুদ্র নেতা যোগেন মণ্ডল কিংবা অমর নৃত্যশিল্পী বুলবুল চৌধুরী একই সময়ে ভবিষ্যৎবাণী করেন এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান টিকবে না। যেখানে ঔপনিবেশিক শোষণ সেখানেই জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের গণতান্ত্রিক আন্দোলন দানা বাঁধে।
কাজেই দুই বছরে রাজ্জাক, মণ্ডল, বুলবুল প্রমুখ যা বুঝতে পারেন গর্দভরা তা পঞ্চাশ কেন একশত বছর পরও বুঝবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ক্ষুদ্র লেকচারার পশ্চিমাদের সাথে অনবরত ঔপনিবেশিক হিংসার বিরুদ্ধে লড়াই করেন। চাকরিচ্যুতি কিংবা মানহানির মত কত তোপ পাঞ্জাবিরা রাজ্জাকের বিরুদ্ধে দাগায়। আমাদের মনে পড়ে ব্রিটিশ শাসনামলে সাহিত্য স¤্রাট ডেপুুটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ইংরেজদের কালো চামড়া বিদ্বেষজনিত অপমানের কথা।
লেকচারার আবদুর রাজ্জাকের কল্পনা অনুসারে ১৯৬৬ সালের ছয়দফা পরিকল্পনা গৃহীত হয়। পাঞ্জাবিদের শোষণের খাঁচায় লাথি মারতে রাজ্জাকের বুদ্ধির দান নেহাত কম নয়। গণতান্ত্রিক আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাষণের দাবি রাজ্জাকের ছাত্ররা ফেরি করেন।
এল ২৫ মার্চ ১৯৭১। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নির্বিচারে যখন গণহত্যা শুরু করে ভাগ্যক্রমে আবদুর রাজ্জাক বেঁচে যান। পরদিন তিনি গুলিবিদ্ধ অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতাকে দেখতে হাসপাতালে যান। এরপর ৫৭ বছরের এই প্রবীণ গ্রামের বাড়ি চলে যান। আবদুর রাজ্জাক ভারতে নিরাপদ আশ্রয় নেননি। কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাপর হীন কাপুরুষ অধ্যাপকদের মত মুক্তিযুদ্ধের রক্তিম দিনগুলিতে মাথায় টুপি পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়ে পাকিস্তানের স্বাভাবিক অবস্থার মিথ্যা প্রমাণ দেন নাই। জান্তা সরকার এই জন্য তাঁকে চাকরিচ্যুতি, স্থাবর-অস্থাবর সকল সম্পত্তি ক্রোক ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। অবশেষে দেশের শ্রমিক, কৃষকসহ সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণে আত্মত্যাগের রক্তবন্যা বইয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

স্বাধীন বাংলাদেশে ক্ষুদ্র এই লেকচারার আরো কয়েকজনের সাথে জাতীয় অধ্যাপকের খেতাব অর্জন করেন। কিন্তু জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের মনীষা শুধুমাত্র এই খেতাবে ঠিক বুঝা যায় না। অধ্যাপক রাজ্জাক আপোস ঘৃণা করতেন। তাই দেখি দেশ স্বাধীন হওয়ার পরই ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন আবদুর রাজ্জাকের কল্লা চাই বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের কলাভবনের করিডোরে মিছিল করে। কিন্তু রাজ্জাক ডিগবাজি দিতে জানতেন না।
বর্তমানের জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই জাতীয় মনীষার আয়নায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের ভূমিকা লক্ষ্য করলে সহজেই বুঝতে পারি আমাদের অন্তঃসারশূন্যতা কোন অতলে গিয়ে ঠেকেছে।
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩